পাইলস রোগ থেকে মুক্তির উপায়

পাইলস রোগ বর্তমান বিশ্বের অনেক নারী-পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত কিন্তু পাইলস রোগ অতি সু-পরিচিত রোগ হলেও আমাদের স্বাস্ব্যের পক্ষে অনেক ক্ষতিকারক একটি রোগ। পাইলস রোগ হেমোরয়েড রোগ নামেও সকলের কাছে সু-পরিচিত। অনেক নারী-পুরুষ দীর্ঘদিন যাবৎ পাইলস রোগ সমস্যায় ভুগছেন এবং সঠিক পরামর্শ নিতে অথবা ডাক্তারদের কাছে যেতেও অনেকটা লজ্জাবোধ মনে করেন।

সেই ক্ষেত্রে পাইলস সঠিক নিরাময়ের জন্য হোমিওপ্যাথিক ও কবিরাজী ঔষধ সহ বিভিন্ন প্রতিকার নেওয়া হয়। এ সকল পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে পাইলস রোগ নিরাময়ের থেকে অনেক জটিল এবং কঠিক হয়ে পড়ে। তাই পাইলস বা হেমোরয়েড সম্পর্কে বিস্তারিত সম্পর্কে জানা একান্ত জরুরি।

পাইলস-রোগ-থেকে-মুক্তির-উপায়

পাইলস রোগ কী?

বায়ুপথ বা পায়খানার মুখের রাস্তায় অনেক সময় ফুলে যায় ও সেখান থেকে রক্ত প্রতিবাহিত অথবা পায়খানার রাস্তায দিয়ে গোটার মত একটি অংশ বেরিয়ে আসে তখন এটাকে বলা হয় পাইলস।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর প্রকৃত নাম দেওয়া হয় হেমোরয়েড। জটিল এবং কঠিন হওয়ার আগে অপারেশন ছাড়াও পাইলস রোগ সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হওয়া সম্ভব।

পাইলস এর লক্ষণগুলো কী?

পাইলস রোগের বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে, তার মধ্যে সহজে বোঝার জন্য মোট চারটি লক্ষণ নিচে পুরোপুরীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যদি এ চারটি লক্ষণ দেখা যায় তাহলে আপনী অবশ্যই চিকিৎসা শুরু করে দিতে পারেন।


পাইলস-রোগ-থেকে-মুক্তির-উপায়


১. পায়খানা বা মলদ্বারের সঙ্গে রক্ত যাওয়া

পাইলস হলে পায়খানার সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রঙ্গের তাজা রক্ত বের হয়। নিয়মিত পায়খানা করার পরে টয়লেট টিস্যু ব্যবহারের ফলে টিস্যুতে রক্তের ফোটা লেগেও থাকতে পারে এবং কমোডে অথবা প্যানের যে কোন জায়গায় লাল রং এর ফোটা দেখা যেতে পারে। পাইলস হলে বায়ুপথের মুখ থেকে অ্যানাল কুশনগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে। যখন রক্ত বাহির হয় তখন জমাট বাঁধার কোন প্রকার সুযোগ হয় না। সে জন্য তাজা লাল রং এর রক্ত লক্ষ্য করা যায়।

যদি অনেক সময় কোনো অবস্থায় পায়খানার সঙ্গে গাঢ় লাল খয়েরী রং এর রক্ত যায়, অথবা কালো রং এর মতো নরম পায়খানা বের হয়, তবে সেটি সাধারণত পাইলস অথবা পাইলস এর কারণেও নয়। শরীরের পরিপাকতন্ত্রের যে কোনো অংশের রক্ত প্রবাহিতের কারণেও পায়খানার সঙ্গে এ রকম রক্ত যেতেই পারে, যদি এ রকম লক্ষণ দেখা যায় তাহলে রক্তপাতের কারণ বিষয়ে তথ্য জানার জন্য অতি তাড়াতাড়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


পাইলস-রোগ-থেকে-মুক্তির-উপায়


২. বায়ুপথের সময় মুখের বিভিন্ন অংশগুলো বেরিয়ে আসা

পাইলস হলে বিশেষ করে মল ত্যাগ করার পরে অ্যানাল কুশনগুলো নরম গোটা আকারে বেরিয়ে আসে। এই গোটা অংশগুলি কিছু সময় মধ্যে আবার নিজে নিজেই ভেতরে চলে যায়। অনেক নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে এই গোটা অংশগুলি আঙ্গুল দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। 

তাছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে পাইলস অনেক জটিল পর্যায়ে যাওয়ার কারণে আঙ্গুল দিয়ে গোটা অংশগুলো ভেতরে ঢোকানো যায় না।


পাইলস-রোগ-থেকে-মুক্তির-উপায়


৩. পায়খানার রাস্তায় ব্যথা হওয়া

পাইলস রোগ বিশেষ করে অনেক জটিল ব্যথার সৃষ্টি হয় না। তবে যদি বায়ুপথের রাস্তায় গোটা অংশগুলো জটিল পর্যায়ে চলে যায় সেগুলো আঙুল দিয়ে ঠেলে দিলেও ভেতরে ঢোকানো সম্ভব হয় না, এবং সে সব গোটা অংশগুলোতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, সে জন্য সেই সময় জটিল ব্যথার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।

ব্যথা অনেক বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। এছাড়াও এ রকম ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।



পাইলস-রোগ-থেকে-মুক্তির-উপায়

৪. পায়খানার রাস্তায় চুলকানি

পাইলস হলে পায়খানার রাস্তায় মাঝে মাঝে এর মুখের চারীদিকে চুলকানি শুরু হতে পারে। তাছাড়াও বায়ুপথ দিয়ে মিউকাস বা শ্লেষ্মা-জাতীয় পিচ্ছিল ও আঠালো জাতীয় পদার্থ বের হতে পারে।

যে কোন সময় মলত্যাগ করার পরেও বারবার মনে হয় যে পেট এখনো সঠিকভাবে পরিষ্কার হয় নি, এ অবস্থায় আবার মলত্যাগ করার প্রয়োজন মনে হয়।

পাইলস ও এনাল ফিসার-এর মধ্যে কিভাবে পার্থক্য করবেন? 

পাইলস ও এনাল গেজ রোগের বিভিন্ন লক্ষণগুলোর মধ্যে অনেকটা একরকম মনে হলেও এই দুইটি আলাদা দুই ধরণের রোগ। এ দুটি রোগ সাধারণত বায়ুপথ বা মলদ্বারে চুলকানির সৃষ্টি হতে পারে এবং টাটকা তাজা লাল রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে। তবে বিশেষ করে এনাল ফিসারের রক্ত অল্প পরিমাণে বেরিয়ে যায়। পাইলস এবং এনাল ফিসার এ দুইটি রোগের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে:

পাইলস হলে বায়ুপথে নরম গোটা অংশের মত লক্ষ্য করা যায়। এ সব গোটা অংশগুলো সাধারণত মলত্যাগের পর পরেই বেরিয়ে আসে, আবার অল্প কিছু সময়ের মধ্যে নিজে নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুল দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এছাড়াও পাইলস হলে বায়ুপথে শ্লেষ্মার মতো দেখতে পিচ্ছিল জাতীয় কিছু পদার্থ বের হয়ে আসতে পারে।

এনাল ফিসার অথবা গেজ রোগে এসব লক্ষণ দেখা যায় না। আর এক্ষেত্রে প্রতিবার মলত্যাগের সময়ই তীব্র ব্যথা হয়। পাইলসে সাধারণত ব্যথা হয় না। এনাল ফিসার বা গেজ রোগের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে পারেন।

পাইলস কেন হয়?

কিছু কিছু কারণে পাইলস রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, সেই সঙ্গে ইতোমধ্যে কারো পাইলস রোগ হয়ে থাকলে জটিলতাও অনেক সময় বাড়িয়ে দেয় যেমন:
খুব শক্ত বা কষা পায়খানা/মলত্যাগ করা।
মলত্যাগ করার সময় অনেক জোরে চাপ দেওয়া।
দীর্ঘ সময় ধরে মলত্যাগের করা।
পায়খানার গতিবেগ ধরে রাখা।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করলে।
অতিরিক্ত ওজন বাড়লে।

এছাড়াও গর্ভ অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার শারীরিক পরিবর্তনের জন্যেও অনেকের ক্ষেত্রে পাইলস এর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। সাধারণভাবে পায়খানার রাস্তা বা মলদ্বারের মুখ বন্ধ হয়ে থাকে। যখন প্রয়োজনে ব্যবহার হয়, তখন হালকা চাপ দিয়ে বায়ুপথের মুখ খুলে শরীর থেকে পায়খানা বা মলত্যাগ করা হয়। বায়ুপথের মুখ বন্ধ রাখার জন্য সেখানে অনেক কিছু একসঙ্গে কাজ করে।

সেক্ষেত্রে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অ্যানাল কুশন। এই কুশনগুলো তিন দিক থেকে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে বায়ুপথের মুখ বন্ধ রাখতে অনেক সাহায্য করে। কোন কারণে যদি তিন দিকে থাকা এসব কুশনগুলো ফুলে যায়, কুশনগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে যায়, বায়ুপথের চারপাশে গোটা অংশের মত দেখা যায়, এই গোটা অংশগুলোকে পাইলস রোগ ধরা হয়ে থাকে।

পাইলস রোগের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

পাইলস রোগের ব্যথা নিরাময় করতে প্যারাসিটামল ঔষধ সেবন করা যেতে পারে। পাইলস রোগের ব্যথার কার্যকরী হিসেবে অন্যান্য ঔষধ এবং মলম পাওয়া বাজারে পাওয়া যায়, ব্যথা নিরাময়ের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সঠিক পরামর্শ অনুযায়ী সে সব ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে অর্শ রোগের ব্যথা নিরাময়ের চারটি উপায় নিচে সঠিকভাবে আলোচনা করা হল:

১. পাইলস হওয়ার স্থানে ব্যথা হওয়া জায়গাটি হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। গোসল করা হয় এমন একটি পাত্রে হালকা গরম পানি তেরী করে নিয়ে সেখানে কিছু সময় বসতে পারেন। দিনে অন্তত তিন থেকে চার বার এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। কোন সময় অন্য কোথাও বসার প্রয়োজন হলে একটি বালিশ অথবা নরম কাপড় ব্যবহার করেও সেখানে বসতে পারেন। আপনার সর্তকতা অনুযায়ী এতে কোন প্রকার সমস্যা নাও হতে পারে।

২. একটি পাত্রে কয়েকটি বরফ নিয়েও সেই বরফগুলি একটি তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে ভালোভাবে পেঁচিয়ে বায়ুপথে গোটা অংশগুলোর উপরে লাগাতে পারেন। এতে অনেকা আরাম অনুভব করতে পারবেন।

৩. বিছানায় শোয়ার পর পা হালকা উঁচু করে রাখলে পাইলস এর গোটা অংশগুলোর রক্ত চলাচল করার জন্য অনেক সহজ হয় এবং এতে করে অনেকটা ব্যথা থেকে আরাম অনুভব করতে পারবেন। দিনে অথবা রাতে যে কোন সময় বিশ্রামের সময় পায়ের নিচে বালিশ দিতে বিশ্রাম নিতে পারেন। তাছাড়াও খাটের পায়ার নিচে কোন কিছু বেঁধে দিয়ে খাটের এক দিকে উঁচু করে সেদিকে পা দিয়ে আরাম অনুভব করতে পারেন।

৪. বায়ুপথ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং শুকনো রাখার চেষ্টা করবেন। যখন মলত্যাগের প্রয়োজন হলে গেলে জোরে চাপ না দিয়ে হালকাভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করে নিতে পারেন অথবা টয়লেট টিস্যু পেপার দিয়ে হালকাভাবে ভিজিয়ে রাখার পর সেটা দিয়ে আলতোভাবে মুছতে পারেন।

ব্যথা নিরাময়ের জন্য যেগুলো ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না

ট্রামাডল: ঔষধ একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস রোগ নিরাময়ের জন্য এই ঔষধ খাওয়া যাবেনা। প্যারাসিটামল এবং ট্রামাডল একসাথে আছে এরকম ব্যথানাশক রোগের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই ভালো।

আইবুপ্রোফেন: এই ঔষধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার বায়ুপথে এবং মলদ্বারের জায়গায় ব্যথার সঙ্গে রক্ত চলে গেলে এই ঔষধ খাওয়া যাবে না। 

কোন সময় অতি তাড়াতাড়ী হাসপাতালে যাবেন?

পাইলস হলে কিছু ক্ষেত্রে অতি তাড়াতাড়ী ডাক্তারের সাথে দেখা করা জরুরি। যেমন:
একটানা সাত দিন বাড়ীতে ঘরোয়াভাবে চিকিৎসা অবলম্বনের পরেও কোন ভাবে উন্নতি না হলে।
নিয়মিত পাইলস রোগের সমস্যা হলে।
50 বছরেরও বেশি বয়সী নারী-পুরুষের প্রথমবারের মত পাইলস এর লক্ষণ বোঝা গেলে।
পাইলস থেকে পুঁজ বের হওয়া ফলে।
জ্বর অথবা কাঁপুনির সৃষ্টি হলে এবং অনেক অসুস্থ বোধ করলে।
সবসময় রক্তক্ষরণ হতে থাকলে।
অতিরিক্ত রক্তপাত হলে। 
জটিল ব্যথার সৃষ্টি হলে।
পায়খানার রঙ কালচে ভাব অথবা কালোর মত মনে হলে।

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

পাইলস রোগের চিকিৎসার জন্য এবং এই রোগের কারণগুলো সম্পুর্ণরূপে প্রতিরোধ করতে হবে। পাইলস রোগ নিরাময়ের জন্য ছয়টি পদ্ধতিতে ঘরোয়া উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে নিরাময় হাওয়া জন্য বেশি বেশি পরিমাণে আঁশ বা ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। এ ধরণের খাবারের তালিকায় রয়েছে সবজি, পুষ্টিকর ফলমূল, ডাল, লাল চাল এবং লাল আটার তৈরির খাবার। সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণেও পানি পান করতে পারেন। কারণ ফাইবার পানি শোষণ করার মাধমেও পায়খানা নরম করে দিতে পারে এবং ফাইবারকে সম্পূর্ণভাবে কাজ করতে হলে সারাদিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা একান্ত প্রয়োজন।

কয়েকদিন এই দুটি কাজ সঠিক নিয়মে করার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব হবে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাইলস এর সকল প্রকার লক্ষণ নিরাময় হতে শুরু করবে। এভাবে ছয় সপ্তাহ অথবা ৪২ দিন ধরে ফাইবার জাতীয় খাবার যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া যায়, তাহলে ৯৫% পাইলস হওয়া রোগীর পায়খানার সঙ্গে রক্ত চলে যাওয়া কমে আসতে থাকবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে চাইলে ইসবগুলের ভূষি এই রোগের সঠিক কার্যকর ঔষধ হিসেবে কাজ করে।

২. মলত্যাগ করার সময় খুব বেশি জোরে চাপ দেওয়া যাবে না। পায়খানা নরম হওয়ার জন্যই সহজেই মলত্যাগ সম্ভব হয়, মলত্যাগ যাতে নরম হয় সেই সব উপদেশগুলো সঠিক সময়ে মেনে চলতে হবে।

৩. মলত্যাগ করার সময় প্রয়োজনে কোনভাবেই অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। টয়লেটে বসে মোবাইলে সোসালা মিডিয়া সহ, ম্যাগাজিন, পেপার, দেখা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

৪. পায়খানায় চাপ আসা মাত্র তা কোনভাবেই চেপে রাখা ঠিক হবে না, পায়খানায় চাপ আসার পরে চাপ ধরে রাখলে পায়খানা শক্ত হয়ে যায় শক্ত হওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের সৃষ্টি হয়। সেই জন্য পায়খানায় চাপ আসলে দেরি না করে সঠিক সময়ে বাথরুমে মলত্যাগ করতে হবে।

৫. প্রত্যেকদিন নিয়ম অনুযায়ী ব্যায়াম অথবা শরীরচর্চা করতে হবে। শরীরচর্চার মধ্যে দিয়ে প্রত্যেকদিন দৌড়ানো অভ্যাস বেছে নিতে পারেন, তাও কিন্তু নয়। শরীরকে সচল রাখতে নিয়মিত হাঁটাচলা সহ, ব্যায়ামের নিয়ম অনুযায়ী যেকোন বিষয় নির্বাচন করতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে হলে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি এবং হালকা পরিমাণে শরীরচর্চাও অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

প্রয়োজনে প্রত্যেকদিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। দিনে অত্যন্ত বিশ মিনিট হাঁটাচলা শুরু করতে পারেন। এরপর আস্তে আস্তে সকাল-সন্ধ্যা দুই বেলা করে হাঁটাচলা করুন। সপ্তাহে প্রথম তিন দিন এরকম ভাবে হাঁটাচলা আস্তে আস্তে সেটা অত্যন্ত পাঁচ দিন নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসুন। 

৬. শরীরের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে তা কমিয়ে ফেলতে হবে। ওজন বৃদ্ধি পেলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে, সেই জন্য পাইলস হওয়া রোগীদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ গ্রহণ করা। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সকল প্রকার উপায় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে।

পাইলস এর অপারেশন

ঘরোয়া চিকিৎসার অবলম্বনের মাধ্যমেও এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করার কারণেও যদি পাইলস রোগ থেকে মুক্তি না হয়, তাহলে অপারেশনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। এগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আপনার চিকিৎসক আপনাকে সঠিক পরামর্শ প্রদান করবেন। পাইলস এর অপারেশন সাধারণত তিন ধরণের হয়ে থাকে যেমন:


১. হেমোরয়েডেকটোমি:- এই অপারেশনের মাধ্যমে পাইলস রোগের গোটা অংশগুলো সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
 
২. স্টেপলড হেমোরয়েডোপেক্সি:- এই পদ্ধতিতে সার্জারীর মাধ্যমে পাইলস রোগের গোটা অংশগুলো পুনরায় বায়ুপথের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।

৩. হেমোরয়েডাল আর্টারি লাইগেশন:- এ রকম অবস্থায় পাইলস রোগের গোটা অংশগুলোর রক্ত অপারেশনের মাধ্যমগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়, যাতে গোটা অংশগুলো সহজে শুকিয়ে যায়।

এগুলো অপারেশনের ক্ষেত্রে এনেসথেসিয়া অথবা চেতনানাশক ব্যবহার পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগীকে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞান করা হয় এবং সার্জারী করার পর দুই থেকে একদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে।


Post a Comment

0 Comments